Home খেলা রোমিও-জুলিয়েটের চেয়েও অমর প্রেম!

রোমিও-জুলিয়েটের চেয়েও অমর প্রেম!

লুইস সুয়ারেজ ও এডিনসন কাভানি—উরুগুয়ের সর্বকালের সর্বোচ্চ দুই গোলদাতা। নিজ নিজ ক্লাবেও তাঁরা নিজেদের জায়গায় সেরা। জাতীয় দলের হয়ে যখন একসঙ্গে খেলেন, তখন যেন ঠিক মানিকজোড় হয়ে ওঠেন। দুজনের বোঝাপড়া পৃথিবীর সেরা কপোত-কপোতীর মতো। দুজন দুজনের চোখের ভাষা বোঝেন চোখের পলকে। বুঝতে পারেন কে কী চাইছেন! এ যেন বিশ্বকাপের অমর এক প্রেমিক জুটি!

উরুগুয়ের হয়ে ‍সুয়ারেজের করা ৫১ গোলের ১০টিতে সহায়তা করেছেন কাভানি, কাভানির ৪৫ গোলের ১৩টিই সুয়ারেজের বানিয়ে দেওয়া। বিশ্বকাপেই সুয়ারেজ-কাভানি মিলে একে অপরকে দিয়ে করিয়েছেন ৪ গোল। ১৯৬৬ বিশ্বকাপের পর কেবল পোল্যান্ডের গ্রেগরজ লাতো-আন্দ্রেজ জারমাজ ও জার্মানির মাইকেল বালাক-মিরোস্লাভ ক্লোসা জুটিরই কাভানি-সুয়ারেজ জুটির থেকে নিজেদের মধ্যে বেশি গোল ছিল (৫টি করে)। এই রেকর্ড ভেঙে যেতেই পারে এখন!

দুজনের মধ্যে রসায়ন দেখলে মনে হয়, দুজনই চোখ বন্ধ করে যেন বলতে পারবেন অপরজন কোথায় আছেন। উরুগুয়ের প্রথম গোলটি যার জলজ্যান্ত প্রমাণ। কাভানির লম্বা পাস খুঁজে নিল সুয়ারেজের বুক। দুর্দান্ত দক্ষতায় বল নিজের নিয়ন্ত্রণে নিলেন সুয়ারেজ, ডি-বক্সে কাভানির দৌড় না দেখেই ধরা পড়ল সুয়ারেজের রাডারে। তাঁর নিখুঁত ক্রস খুঁজে নিল কাভানির মাথা। গোল! যেন তৈরি করা চিত্রনাট্য।

উরুগুয়ের ফুটবলে দুর্দান্ত সব আক্রমণভাগের খেলোয়াড় এসেছে যুগের পর যুগ। আলসিডেস ঘিগিয়া থেকে শুরু করে হুয়ান স্কিয়াফিনো, এনজো ফ্রান্সেসকোলি, ডিয়েগো ফোরলান। তাঁদেরই উত্তরসূরি হিসেবে উরুগুয়ে একত্রে দুজন বিশ্বমানের স্ট্রাইকার পেয়েছে কাভানি-সুয়ারেজের মাঝে।

উরুগুয়ের ফুটবলের স্বর্ণযুগ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। ১৯৩০ ও ১৯৫০ বিশ্বকাপ জেতার পর আর কখনো ফাইনালেই খেলতে পারেনি উরুগুয়ে। ২০১০ বিশ্বকাপে ডিয়েগো ফোরলান একাই দলকে নিয়ে গিয়েছিলেন সেমিফাইনালে। ২০১১ কোপা আমেরিকা জেতাই উরুগুয়ের ফুটবলের শেষ সাফল্য হয়ে আছে।

কাভানি-সুয়ারেজ দলে আসার পর নিজেদের ফুটবল নিয়ে আবারও স্বপ্ন দেখা শুরু করেছিলেন উরুগুয়ের সমর্থকেরা। সেই স্বপ্ন এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। দুজন বিশ্বমানের স্ট্রাইকার দলে থাকলে যেকোনো দলই নিজেদের শক্তিশালী মনে করতে পারে। উরুগুয়ে মাঝেমধ্যে বড় দলের ঝলক দেখালেও ধারাবাহিকতা ছিল না কখনোই। তবে রাশিয়া বিশ্বকাপের আগে দারুণ ধারাবাহিক অস্কার তাবারেজের দল। গতকাল পর্তুগালের বিপক্ষে হজম করা গোলটি পুরো ২০১৮ সালেই উরুগুয়ের খাওয়া প্রথম গোল।

কোয়ার্টার ফাইনালে প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে আসা বিশ্বকাপ ফেবারিট ফ্রান্স। উরুগুয়েও পারফরম্যান্স দিয়ে ফেবারিটের তালিকায় নিজেদের নাম লিখিয়ে নিয়েছে। সুয়ারেজ-কাভানির মতো মানিকজোড় থাকতে উরুগুয়ে সেমিফাইনাল খেলার স্বপ্ন দেখতেই পারে। সেমিফাইনালই-বা কেন, স্বপ্নটা আরও একটু বেশি হলে ক্ষতি কী!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here